এইচএসসির বাতিল পরীক্ষা নেওয়ার দাবি ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ফোরাম’র
২৬ আগস্ট ২০২৪ ১১:২১
ঢাকা: মেধার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাতিলকৃত এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ফোরাম’।
রোববার (২৫ আগস্ট) উদ্বিগ্ন অভিভাবক ফোরাম থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একদল পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় না নিয়ে সরাসরি পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণাটি সম্পূর্ণ অবিবেচনা প্রসূত একটি সিদ্ধান্ত বলে মনে করছি আমরা ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ফোরাম’।
আমরা মনে করছি, পরীক্ষা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধার অবমূল্যায়ন করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা অযৌক্তিক এবং একপাক্ষিক। এ ধরনের প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিভাবকসহ দেশের বিভিন্ন কলেজগুলোর সম্মানীত অধ্যক্ষ এবং জেষ্ঠ্য শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সিদ্ধান্তে আসা যেত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ৩০ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে সাতটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। এরইমধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সারা দেশে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দুই দফায় স্থগিত করা হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তখন পর্যন্ত ছয়টি লিখিত পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল। এরপর, দেশের পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে স্থগিত পরীক্ষাগুলো ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার ঘোষণা দেয় নতুন শপথ নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার।
কিন্তু একদল পরীক্ষার্থী গত ১৯ ও ২০ আগস্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং সচিবালয় ঘেরাও করে স্থগিত বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই (২০ আগস্ট) পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে সরকার।
এমন অবস্থায় আমরা উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা মনে করছি যে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে গিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ উচ্চ শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। এতে করে মেধাবী শিক্ষার্থীরা অবমূল্যায়িত হবে, দেশে-বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতের জন্য এই সিদ্ধান্ত একটি নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিল। অর্থাৎ আন্দোলন করলেই যে কোনো অযৌক্তিক দাবিও আদায় করা যায় সে রকম একটি উদাহরণ তৈরি হল।
আর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকেও বলতে চাই, কষ্ট হলেও তোমাদের পরীক্ষা দেওয়া উচিত। আমরাও চাই না যে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আহত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কোনো বৈষম্য হোক। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে তোমাদের সঙ্গে আমরা অভিভাবকরাও সমর্থন দিয়েছি এবং অনেকেই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন। আমরা অভিভাবকরা তোমাদের মঙ্গল চাই। তোমরাই একদিন এই দেশের হাল ধরবে। শুধু দেশ নয়, বিদেশেও তোমরা যেন তোমাদের মেধার সাথে রাখতে পার সেটা ভেবেও আমরা অভিভাবকরা গর্বিত হই।
চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো এইচএসসি পরিক্ষার্থীসহ আমাদের সকল সন্তানদের উন্নত শিক্ষাজীবনের পথ সুগম করতে দুই মাস পিছিয়ে দিয়ে হলেও এইচএসসি’র বাকি পরিক্ষাগুলো নেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ করছি অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে ।
বিবৃতিতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি যুক্তিসঙ্গত সমাধানের পথ খুজেঁ বের করে এই সাড়ে ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সারাবাংলা/ইআ