শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল খুবি
৭ জুলাই ২০২৪ ২১:২৪
খুলনা: সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে অন্তর্ভুক্তিকরণ ও স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অন্যদিকে, চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
রোববার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ও দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আহ্বানে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আয়োজনে পঞ্চম দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছে।
সর্বাত্মক কর্মবিরতির কারণে সকল বিভাগের ক্লাস, অনলাইন ক্লাস, সান্ধ্যকালীন ক্লাস, প্রফেশনাল কোর্সের ক্লাস, মিডটার্ম, ফাইনাল ও ভর্তি পরীক্ষাসহ সকল ধরনের পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রত্যয় স্কিম থেকে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার, স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন, সুপার গ্রেড এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলাকালে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম ফিরোজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা বক্তব্য দেন।
সর্বজনীন পেনশন বিধিমালা-২০২৩ এর প্রত্যয় স্কিম থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রত্যাহার এবং নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের ক্ষেত্রে ইউজিসি কর্তৃক সুপারিশকৃত অভিন্ন নীতিমালায় বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের ১২ দফা অন্তর্ভুক্তির দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মবিরতি চলাকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে সকালে সাড়ে ৯টায় পরিষদের সভাপতি উপ-রেজিস্ট্রার দীপক চন্দ্র মন্ডলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উপ-রেজিস্ট্রার মো. শহিদুল আলম হাওলাদারের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন উপ-রেজিস্ট্রার শেখ আরিফ নেওয়াজ, উপ-রেজিস্ট্রার সামছুন্নাহার শিমুল, উপ-রেজিস্ট্রার হাওলাদার আলমগীর হাদি, উপ-রেজিস্ট্রার তারিকুজ্জামান লিপন, উপ-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপ-রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মিজু, সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল চক্রবর্তী, সহকারী রেজিস্ট্রার মমতাজ খানম লাবণী, সহকারী রেজিস্ট্রার সালাউদ্দিন সুকর্ণ প্রমুখ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সালের ঘোষিত কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখাসহ চার দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী খুলনা শিববাড়ি মোড়ে অবরোধের মধ্য দিয়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা।
রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’ এর ব্যানারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে জড়ো হন।
এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা নগরের গল্লামারী, নিরালা ও ময়লাপোতা মোড়ে বিক্ষোভ করেন এবং ময়লাপোতা মোড় হয়ে শিববাড়ি অবস্থান নেয়। এসময় তাদের হাতে জাতীয় পতাকা, ঢোল, প্ল্যাকার্ডসহ বিভিন্ন ব্যানার ছিল। এ সময় পুরো খুলনা শহরের যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে যায়। পরবর্তীতে এ সমাবেশে খুলনার সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়ে শিববাড়ি মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
সারাবাংলা/আইই